বিড়াল-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-১০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

বিড়াল-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-১০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল-প্রশ্ন-১: দরিদ্র বাবা-মা তাদের প্রথম সন্তানের নাম রাখেন সাজাহান। তাঁদের স্বপ্ন, সাজাহান অনেক বড় হবে। কিন্তু আর্থিক অভাব ও শিক্ষা না থাকায় সাজাহান কিশোর বয়সেই কাজে নেমে পড়ে। পাশের গ্রামের কৃপণ ও ধনী আলম সাহেবের বাড়িতে সাজাহান কাজের লোক হিসেবে নিযুক্ত হয়। প্রতিদিন ঘরে ও বাইরে সমান পরিশ্রম করে সাজাহান। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী তার ভাগ্যে খাবার জোটে না। একদিন বাজারের টাকা বাঁচিয়ে সাজাহান লাড্ডু কিনে যায়। কিন্তু টাকার হিসেব দিতে না পারায় আলম সাহেব তাকে নির্দয়ভাবে মারেন। মনে ক্ষোভ নিয়েও সাজাহান, সব সহ্য করে, কারণ সে জানে, সে গরিব-অসহায়।

ক. বিড়াল কমলাকান্তকে কতদিন উপোস করতে বলেছে?
খ. চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণ দোষী:- এ কথার তাৎপর্য কী?
গ. উদ্দীপকের সাজাহান ও বিড়াল’ রচনার বিড়াল একই বিড়ম্বনার অংশীদার- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বিড়াল’ রচনার ভাবসতোর যেন প্রতীকী রূপ- এ মত কতটা গ্রহণযোগ্য? মূল্যায়ন করো।

READ ALSO

সৃজনশীল-উত্তর-১:
ক. বিড়াল কমলাকান্তকে তিনদিন উপোস করতে বলেছে।

খ. প্রয়োজনাতীত ধন থাকা সত্ত্বেও কৃপণ ধর্মী ক্ষুধার্তের জন্য সম্পদ বিতরণ করে না বলেই লোকে চুরি করে।”বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের সাথে কমলাকান্তের কাল্পনিক কথোপকথনে চোরের চুরি করার কারণ বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, চোর চুরি করে বলে সে দোষী। অথচ ধনীরা প্রয়োজনাড়ীত ধন থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষুধার্তের প্রতি মুখ তুলে চায় না। তাই চোর চুরি করতে বাধ্য হয়। অতএব, চোরের চেয়েও কৃপণ ধনী বেশি অপরাধী।

গ. . উদ্দীপকের সাজাহান ও ‘বিড়াল’ রচনার বিড়ালের মাঝে ন্যায্য অধিকার থেকে বম্বিত হওয়ার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। ‘বিড়াল’ রচনায় লেখক কল্পিত বিড়ালের ভাষ্যে বলেছেন, দরিদ্রের চুরি করার কারণ হচ্ছে ধনীর কৃপণতা। সমাজে গরিবেরা বেঁচে থাকার জন্য সামান্য খাবার পর্যন্ত পায় না। ক্ষুধা নিবারণের জন্য দরিদ্ররা চুরি করলে ধনীরা লাঠি হাতে তাদের মারতে উদ্যত হয়। এই রীতি অনুসরণ করেই কমলাকান্ত বিড়ালকে দুধ চুরির নায়ে লাঠি হাতে মারতে এগিয়ে যায়। উদ্দীপকে অধিকার বঞ্চিত কিশোর সাজাহানের কথা উঠে এসেছে। আর্থিক দূরবস্থার কারণে সে পাশের গ্রামের ধর্ম অথচ কৃপণ আলম সাহেবের বাড়িতে কাজ করে। সারাদিন কঠিন পরিশ্রম করলেও সালাহানের ভাগ্যে পর্যাপ্ত খাবার জোটে না। বরং বাজারের টাকা বাঁচিয়ে একদিন লাড্ডু কিনে খেলে আলম সাহেব তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করেন। ‘বিড়াল’ রচনায় বর্ণিত হয়েছে, ধনী ব্যক্তির স্বভাবের কারণেই দরিদ্রেরা চুরি করে। কারণ, কৃপণ ধনী দরিদ্রের মাঝে সম্পদ বিতরণ না করে নিজেকে আরও ধনী করতে ব্যস্ত থাকে। বাঁচার তাগিদে দরিদ্র চুরি করলে ধনীরা তাদের শাস্তি নিতে দ্বিধা করে না। সুতরাং বলতে পারি, বঞ্চনা ও শোষণের দিক থেকে উদ্দীপকের সাজাহান ও ‘বিড়াল’ রচনার বিড়াল, একই বিড়ম্বনার অংশীদার এ মন্তব্যটি যথার্থ।

ঘ. ‘বিড়াল’ রচনায় শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, সাধু-চোরের অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ‘বিড়াল’ রচনায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, পরিদ্রের বঞ্চনা, সমালের অরাজকতায় ধনীর ভূমিকা ইত্যাদি নানা বিষয় বিড়ালের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বিড়ালের সঙ্গে কমলাকান্তের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে লেখক মূলত সামাজিক নানা অসঙ্গতির বিষয়ে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও এ ধরনের শোষণ-বঞ্ছনার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে সাজাহান নামের এক কিশোরের ব্যনার দিক প্রতিফলিত হয়েছে। সাজাহানের আর্থিক সঙ্গতি ও উপযুক্ত শিক্ষা না থাকায় পাশের গ্রামের আলম সাহেবের বাসায় কাজ নেয়। সাজাহান সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করলেও কৃপণ আলম সাহেব তাকে পর্যাপ্ত খাবার দিতেন না। একদিন বাজারের টাকা বাঁচিয়ে লাভ কিনে খেলে আলম সাহেব তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করেন। উদ্দীপকের আলম সাহেবের এ মানসিকতা ও আচরণ ‘বিড়াল’ রচনার কৃপণ-ধনীদের মাঝেও লক্ষণীয়। ‘বিড়াল’ রচনায় বর্ণিত হয়েছে দরিদ্রের চুরি করার কারণ হচ্ছে ধনীর কৃপণতা। এ সমাজে দরিদ্রকে বঞ্চিত করে ধনীরা সম্পদের পাহাড় পড়ে তোলে, অথচ গরিবেরা থাকে অকৃত্ব। লেখক একটি প্রতীকী বিড়ালের মাধ্যমে সমাজের এসব অসঙ্গতিকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। সেইসঙ্গে যুক্তিনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছেন অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা। ধনীরা সম্পদের সুষম বণ্টন করলে সমাজে এত বৈষম্য তৈরি হতো না। উদ্দীপকেও সম্পদের অসম বণ্টন ও দরিদ্রের প্রতি ধনীর অত্যাচারের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। সমাজের এ বাস্তবতায় সাজাহানের মতো দরিদ্র ছেলে বাজারের টাকা বাঁচিয়ে সামান্য লাড্ডু কিনে খাওয়ার অপরাধে আলম সাহেবের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। অতএব বলতে | পারি, উদ্দীপকটি ‘বিড়াল’ রচনার ভাবসত্যেরই যেন প্রতীকী রূপ – এ মতটি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।

সৃজনশীল-প্রশ্ন-২: শামসুদদীন আবুল কালামের ‘মৌসুম’ গল্পটি রচিত হয়েছে তৎকালীন জমিদারদের অধীন জনজীবনকে কেন্দ্র করে। সে সময় জমিলারদের শোষণের বিরুদ্ধে একদল সমাজরূপান্তর ও স্বাধীনতাকামীদের প্রচেষ্টায় কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে। গল্পে দেখা যায়, দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টির আগমনে কৃষকরা ভালো ফসল পাওয়ার আনন্দে বিভোর হয়। কৃষকদের মনের এই আনন্দ জমিদারের পছন্দ হয় না। চাল মজুদ করে দাম বাড়িয়ে কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে দেয় জমিদার।

ক. লাঙ্গুল কী?
খ. একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্তের বড়ই আনন্দ হইল’— কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষকদের অবস্থার সাথে বিড়াল’ রচনার বিড়ালের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের সাথে বিড়াল’ রচনার গুণগত পার্থক্যগুলো তোমার যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।

সৃজনশীল-উত্তর-২:

ক. লাঙ্গুল শব্দের অর্থ-লেজ।

খ. কমলাকান্ত নীতিকথার মাধ্যমে বিড়ালকে চুরি করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছে ভেবে আনন্দিত হয়।
‘পতিত আত্মা’ বলতে সুস্থোনে নৈতিক অধঃপতনকে বোঝানো হয়েছে। মুখ চুরির দায়ে কমলাকান্ত বিড়ালকে মারতে উদ্যত হলে বিড়াল তার প্রতিবা করে। বিড়ালের মতে, পৃথিবীর খাদ্যদ্রব্যে সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে। তাই ক্ষুধার্ত হয়ে কেউ চুরি করলে তার জন্য কৃপ ধনীকেই দায়ী মনে করে সে। বিড়ালের বৃত্তির কাছে পরাজিত কমলাকান্ত নীতিবাক্সের আশ্রয় নেয়। আর এর মধ্য দিয়ে বিড়ালের মনোভাব পরিবর্তন করতে পেরেছে ভেবে পরিতৃপ্তি লাভ করে কমলাকান্ত।

গ. কারো স্থলিত হবার পেছনে যে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা বহুলাংশে দায়ী তেমনি একটি ধারণার যুক্তিনিষ্ঠ উপস্থাপনা ঘটেছে বিড়াল রচনায়। “বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের ভাষ্যে দরিদ্রের চুরি করার কারণ হচ্ছে ধনীর কৃপণতা। দরিদ্রকে বঞ্চিত করে ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে আর পরিবরা বেঁচে থাকার জন্য সামান্য খাবার পর্যন্ত পায় না। এ রচনায় বিড়াল চরিত্রটি এসেছে শোষিত, প্রতিবাদী ও শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে। সে অধিকার আদারে সচেষ্ট, যেমনটি উদ্দীপকের শেষিত কৃষকদের মাঝে লক্ষ করা যায়।উদ্দীপকে শামসুদদীন আবুল কালামের ‘মৌসুম’ পরে তৎকালীন জমিদারদের শোষণ, নির্যাতন নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি বর্ণিত হয়েছে এ সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিবাদের চিত্র। সে সময় অত্যাচারী জমিদারের শোষণের বিরুদ্ধে একদল সমাজরূপান্তর ও স্বাধীনতাকামীদের প্রচেষ্টায় কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে। তেমনি ‘বিড়াল’ রচনায় বিভাগের কণ্ঠে পৃথিবীর সকল বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দলিত শ্রেণির ক্ষোন্ত-মর্মবেদনা- প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে। বিড়ালের মতে, পৃথিবীর খাদ্যদ্রব্যে সকলেরই অধিকার রয়েছে। তাই সে মনে করে ক্ষুধার্ত হয়ে কেউ চুরি করলে তার জন্য কৃপণী দায়ী। তাই প্রতিবাদী মানসিকতার দিক নিয়ে উদ্দীপকের কৃষকদের সাথে বিড়াল চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. আপাত অপরাধীর অপরাধ প্রবণতার পেছনে যে সমাজ ব্যবস্থার অনস্বীকার্য ভূমিকা রয়েছে তেমনি বক্তব্যের অবতারণা ঘটেছে বিড়াল রচনায়। “বিড়াল’ রচনায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, দরিদ্রের করুনা, সমাজের অরাজকতায় ধনীর ভূমিকা ইত্যাদি নানা বিষয় বিড়ালের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বিড়ালের সঙ্গে কমলাকান্তের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে লেখক মূলত সামাজিক নানা অগতির বিষয়ে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে এর আংশিক দিক মাত্রা। উদ্দীপকে শামসুদদীন আবুল কালাম তাঁর ‘মৌসুম’ পরে তৎকা শ্রেণির নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টির আগমনে ভালো ফসল পাওয়ার আশায় কৃষকদের আনন্দ প্রকাশ করতে। কেননা ভালো ফসল হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা দুবেলা পেটপুরে খেতে পারবে। কিন্তু অত্যাচারী জমিদার গরিবের এ সামান্য চাওয়াকে ভালো চোখে দেখেননি । তিনি কৃষকদের বেকায়দায় ফেলতে চাল মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সঙ্গত কারণেই গরিবদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। কিন্তু > ‘বিড়াল’ রচনায় এই বিষয়টিই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। “বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের ভাষ্যে দরিদ্রের চুরি করার কারণ হচ্ছে ধনীর কৃপণতা। সে মনে করে, দরিদ্রকে বঞ্চিত করে ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে আর গরিবরা বেঁচে থাকার জন্য সামান্য খাবার পর্যন্ত পায় না। লেখক একটা বিড়ালের মাধ্যমে শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, সাধু-চোরের অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা শ্লেষাত্মক ও যুক্তিনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছেন। এ 5 দিকটি উদ্দীপকের বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং বক্তব্যের যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় উদ্দীপকের সাথে বিড়াল’ রচনার যথেষ্ট গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।

সৃজনশীল-প্রশ্ন-৩: চণ্ডিগড় শহরের উপকণ্ঠে বাড়ি ভাড়া নেয় সুরেশ ও কল্যাণী ব্যানার্জী। তাদের এক সন্তান শান্ত। স্বামী-স্ত্রী চাকুরিজীবী হওয়ায় শান্তকে দেখাশোনার জন্য গ্রাম থেকে আনা হয় আট বছর বয়সী দরিদ্র অনিতাকে। সারাদিনের খাটুনিতে অনিতার শ্রান্ত শরীরে ঘুম চলে আসে 5 সন্ধ্যারাতে। কল্যাণীর ধারণা অনিতার খাবারের পরিমাণ আরও কমালে ওর ঘুম আসবে না। তাই অনিতার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয় কল্যাণী। কম খেতে খেতে অনিতা শীর্ণকায় হয়ে পড়ে। শান্তর উচ্ছিষ্ট সে চুরি করে খায়। এটা জানতে পেরে কল্যাণী অনিতার উপর নির্যাতন চালায়, তওবা করায় এবং উপদেশ দেয় যে চুরি করে খাওয়া পাপ। ফ্রিজে ভর্তি করা খাবার, শান্ত খাওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়ায় আর অনিতা শান্তর উচ্ছিষ্টের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

ক. কাকে ইতঃপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেওয়া গিয়েছে বলে কমলাকান্ত মনে করল?
খ. সকল দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ করিয়া ধর্মাচরণে মন দাও’- কে, কেন বলেছিল?
গ. উদ্দীপকের অনিতা ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের কোন শ্রেণিকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ভাবার্থ ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

সৃজনশীল-উত্তর-৩:

ক. ডিউক মহাশয়কে ইতঃপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে কমলাকান্ত মনে করল।

খ. বিড়ালের যুক্তিগ্রাহ্য কথায় পর্যুদস্ত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কমলাকান্ত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধটুকু বিড়াল খেয়ে ফেলায় সে তাকে মারতে উদ্যত হয়। তখন বিড়াল তার চোর হওয়ার কারণ হিসেবে কৃপণ ধনী ব্যক্তিদের ও সাধারণ মানুষের নির্দয়তাকে দায়ী করে। বিড়ালের মুখে এমন যুক্তিগ্রাহ্য কথা শুনে সে পর্যুদস্ত হয়। কিন্তু তা বিড়ালকে বুঝতে না দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কমলাকান্ত উপদেশসূচক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।

গ. উদ্দীপকের অনিতা বিড়াল’ প্রবন্ধের বিড়াল চরিত্রের নেপথ্যে থাকা বঞ্চিত, নিষ্পেষিত শ্রেণির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে লেখক বঞ্চিত ও দলিতের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মর্মবেদনাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্রের অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা বলেছেন। বিড়ালটি হয়ে উঠেছে সকল উপেক্ষিত অধিকার বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি। উদ্দীপকে আট বছর বয়সী অনিতাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না গৃহকর্ত্রী কল্যাণী। ক্ষুধার জ্বালায় একপর্যায়ে চুরি করে খেতে শুরু করে অনিতা। তখন কল্যাণী তার উপর নির্যাতন চালায় ও এই বলে উপদেশ দেয় যে— চুরি করা পাপ। কল্যাণীর ছেলে শান্ত খেতেই চায় না। আর অনিতা শান্তর উচ্ছিষ্ট খাওয়ার জন্য লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অন্যদিকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধটিতে বিড়ালটি ক্ষুধার জ্বালায় কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ খেয়ে ফেলে। মানুষ মাছের কাঁটা, পাতের ভাত ফেলে দিলেও বিড়ালকে দেয় না। কিন্তু সমাজের শিরোমণিদের ক্ষেত্রে তাঁরা খেতে না চাইলেও অপরিমিত খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। বিড়ালের এ অভিযোগের মধ্য দিয়ে সকল দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি সমাজের উঁচু তলায় থাকা মানুষের আচরণের নগ্ন দিক ফুটে ওঠে। উদ্দীপকের অনিতা ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের বিড়াল দুজনই শোষিত শ্রেণির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। মা উদ্দীপকের মধ্যে “বিড়াল’ প্রবন্ধের মূলভাবটিই ফুটে উঠেছে।

See also  ডেটা কমিউনিকেশনের ধারণা-Concept of Data Communication-Hsc Ict

ঘ. “বিড়াল’ প্রবন্ধে বঞ্চিত শ্রেণির মর্মবেদনা প্রকাশ পেয়েছে। একইসঙ্গে এখানে ফুটে উঠেছে ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নির্দয়তার দিকটিও। উদ্দীপকের অনিতা একজন গৃহকর্মী। সারাদিন প্রচণ্ড খাটুনির পরও গৃহকর্ত্রী তাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না। ফলে একসময় সে বাধ্য হয়ে চুরি করে খেতে শুরু করে। এদিকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের বিড়ালটিও ক্ষুধার জ্বালায় কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধটুকু খেয়ে ফেলেছিল। “বিড়াল’ প্রবন্ধে একটি বিড়ালের কণ্ঠে সকল বঞ্চিত, নিষ্পেষিত ও দলিতের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মর্মবেদনা ফুটে উঠেছে। বিড়ালটির অভিযোগ এই যে, মানুষের নির্দয়তাই তাকে চুরি করতে বাধ্য করেছে। তাদের মতো ক্ষুধার্ত, বঞ্চিতরা খাবারের অভাবে কষ্ট পায় অথচ ধনী ব্যক্তিদের জন্য খাবারের আয়োজন করতেই ব্যস্ত সবাই। বিড়ালের মতে, চোরের দণ্ড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃপণ ধনী ও নির্দয় মানুষেরও দণ্ড হওয়া দরকার। উদ্দীপকের চিত্রও “বিড়াল’ প্রবন্ধটির অনুরূপ। অনিতা ক্ষুধার জ্বালায় শীর্ণকায় হয়ে পড়ে আর কল্যাণীর ছেলে শান্ত খাওয়া থেকে পালিয়ে বেড়ায়। খাওয়ার অভাবে যে ছটফট করে সে খেতে পায় না, আর যে ভরপেটে থাকে তার জন্যই সকল খাদ্যের আয়োজন। “বিড়াল’ প্রবন্ধে ফুটে ওঠা বঞ্চিতের হাহাকার উদ্দীপকেও সমানভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

সৃজনশীল-প্রশ্ন-৪:
শেষ পর্যন্ত এক কৃষিজীবী পরিবারেই বিয়ে হয় ছবিরানির। স্বামী ধনপতির একটি উন্নত জাতের গাভি আছে; গাভির একটি ছোট্ট বাছুর আছে। সেই বাছুরকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করে দুইবেলা গাভির সবটুকু দুধ দোহন করে নেয় ধনপতি। বাছুরকে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্বামীকে সহায়তা করে ছবিরানি। গাভি যেন সামান্য দুধও বাছুরের জন্য রাখতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর তাদের। কদিন আগে ছবিরানির কোলজুড়ে আসে নবজাত ফুটফুটে এক শিশু সন্তান। এই শিশু যখন ক্ষুধায় কান্না করে, ছবিরানি তখন পরিবারের সব কাজ ফেলে পরম মমতায় সন্তানকে মাতৃদুগ্ধদানে তৃপ্ত করে। একদিন তার শিশু সন্তানকে মাতৃদুগ্ধে পরিতৃপ্ত করতে গিয়ে সে অনুভব করে, মাতৃদুগ্ধ-বদ্যিত রেখে কী নির্মম আচরণ করে যাচ্ছে তারা গাভির অসহায় বাছুরের ওপর। তারপর থেকে সে স্বামীকে এই কাজে আর সহায়তা করে না।

ক. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দুধ দুহিয়াছে কে?

খ. ‘তাহাদের রূপের ছটা দেখিয়া, অনেক মার্জার কবি হইয়া পড়ে।’- কার, কেন?

গ. উদ্দীপকের ছবিরানি কোন দিক দিয়ে কমলাকান্তের সঙ্গে তুলনীয়?

ঘ. উদ্দীপকে বিবৃত ‘নির্মম আচরণ’ অধিকার হরণেরই নামান্তর- উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল-উত্তর-৪:

ক. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দুধ দুইয়েছে প্রসন্ন। বিত্তবানদের আশীর্বাদপুষ্ট মার্জারীর রূপের ছটা দেখে অনেক

খ. মার্জারীর মধ্যেই বিশেষ ভাবনার উদ্রেষ্ট হয়। সমাজে বিত্তহীন শ্রেণি প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হলেও ধনিক শ্রেণি তাদের দিকে দৃষ্টি দেয় না। কদাচিৎ এই শ্রেণির কারো দিকে যদি ধনীদের অনুকম্পার দৃষ্টি পড়ে তবে সে শ্রেণিস্বার্থ ভুলে আপসের মাধ্যমে নাদুসনুদুস হয়ে ওঠে। তখন তার সৌন্দর্য দেখে সগোত্রের অনেকেই ভাবনায় পড়ে যায়, যা কবিরই অনুৰূপ।

গ. একটি বিশেষ উপলব্ধিগত দিক থেকে উদ্দীপকের ছবিরানি ‘বিড়াল’ রচনার কমলাকান্তের প্রতিরূপ।‘বিড়াল’ রচনায় কমলাকান্ত শোষিত শ্রেণির প্রতিনিধি বিড়ালের সাথে নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে গেলেও সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান তাকে ভাবিত করে। বিড়ালের সাথে কথোপকথনে কমলাকান্ত অনুধাবন করে শোষিত শ্রেণিকে তার নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অনুচিত। তাই শোষিত শ্রেণির প্রতিনিধি বিড়ালের প্রতি কমলাকান্তের সহমর্মী ভাব প্রকাশ পায়।উদ্দীপকের ছবিরানিও তার শেষ উপলব্ধির মাধ্যমে কমলাকান্তের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। ছবিরানি প্রথমে অসহায় ক্ষুধার্তকে নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তার ভাবনার জগৎ পরিবর্তন হয়। নিজের সন্তানকে মাতৃদুদ্ধ করতে গিয়ে ছবিরানির মনে পড়ে মাতৃগুদ্ধ বঞ্চিত বাছুরের কথা। অবশেষে তার মানবিক বোধের জাগরণ ঘটে। বাছুরকে তার ন্যায্য পাওনা মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত রাখতে তার মনে সায় দেয় না। এক্ষেত্রে ছবিরানি বরং ‘বিড়াল’ রচনার কমলাকান্তের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সে বাছুরকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে তার স্বামীকে আর সাহায্য করে না। এভাবে ছবিরানি ‘বিড়াল’ রচনার কমলাকান্তের প্রতিভূ হয়ে উঠে।

ঘ. ক্ষেত্রবিশেষে কারো প্রতি নির্দয় আচরণ তার অধিকার অস্বীকারকেই স্পষ্ট করে তোলে।’ – বিড়াল রচনায় এমন বক্তব্যই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিড়াল’ রচনায় আমরা দেখতে পাই, নিরীহ প্রাণী বিড়াল খেতে না পেয়ে, ক্ষুধার যন্ত্রণায় কমলাকান্তের দুধ চুরি করে খায়। কমলাকান্ত অনাহারী বিড়ালের ক্ষুধার যন্ত্রণার কথা না ভেবে লাঠি হাতে তার দিকে ধাবিত হন। এটাই ধনীদের শ্রেণিচরিত্র। বিত্তহীন মানুষের ক্ষুধা-তৃষ্ণায় তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বস্তুত তাদের শোষণ-বঞ্চনার কারণেই বিড়ালের প্রতীকরূপী নির্যাতিত মানুষের শ্রেণি অবস্থান শোষিতশ্রেণির পর্যায়ে নেমে আসে।উদ্দীপকের ছবিরানির কাজ নির্মম ও অমানবিক। সে একটি ছোট্ট বাছুরকে খিদে মেটানোর একমাত্র উপাদান মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত করে। নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সে বাছুরের স্বাভাবিক অধিকার হরণ করে। এ আচরণ নিঃসন্দেহে নির্মম। ছবিরানির কোলজুড়ে সন্তান আসার পর তার এই অমানবিকতা সম্পর্কে বোধোদয় হয়। তখন থেকে নিজের শিশুর কথা ভেবে সে আর বাছুরের প্রতি নিমর্মতা দেখাতে পারে না। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই কিছু মৌলিক অধিকার নিয়ে জন্মায়। তাদের সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা চরম নির্মমতার বহিঃপ্রকাশ। উদ্দীপকে সেই নির্মমতার প্রকাশ ঘটেছে ধনপতি ও তার স্ত্রী ছবিরানির আচরণে। তারা গরুর বাছুরকে মায়ের দুধ না খেতে দিয়ে মূলত বাছুরের অধিকারকেই হরণ করেছে। আবার ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের মতো শোষিত শ্রেণিকে ধনিক শ্রেণি তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখে। তাই বলা যায় উদ্দীপকে বিবৃত “নির্মম আচরণ” তার অধিকার হরণেরই নামান্তর”- উক্তিটি যথার্থ।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-৫:
প্রার্থনা বেশি কিছু নয়
আমার ঘামের দাম । তায়ো দেবে না কি?
তবে শোন, ধান কাটা শেষ
কাস্তের অবকাশ।
সুতরাং সময় কাটাতে
তোমার কণ্ঠনালী
এবার সে ছোঁবে।

ক. ‘মার্জার’ অর্থ কী?
খ. সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি।’ ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্চনার কথা কতটা প্রতিফলিত
হয়েছে আলোচনা করো ।
ঘ. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত অধিকারবোধের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে
উদ্দীপকে— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো ।

সৃশনশীল-উত্তর-৫:

ক. ‘মার্জার’ অর্থ- বিড়াল।

খ. সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কে বিড়ালের মত প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উক্তিটিতে। কমলাকান্তের মতে, যার যত ক্ষমতা, সে তত ধন সমায় করতে না পারলে কিংবা সঞ্চয় করে চোরের জ্বালায় নির্বিঘ্নে ভোগ না করতে পারলে কেউ ধন সদায় করবে না। তাতে সমাজের ধনবৃদ্ধি হবে না। কিন্তু সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কে বিড়ালের মত ভিন্ন। তার মতে, সমাজের ধনবৃদ্ধি মূলত ধনীর ধনবৃদ্ধি। কারণ ভাতে দরিদ্রদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বিড়ালের স্বগতোক্তিতে লেখক সমাজের সম্পর্কিত আত্মোপলব্ধি তুলে ধরেছেন।

গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “বিড়াল’ প্রবন্ধের সংহভাগ জুড়েই বর্ণিত হয়েছে দরিদ্রের বঞ্চনার কথা।
এ রচনায় বিড়ালের কন্ঠে পৃথিবীর সকল বর্ণিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনা যুক্তিগ্রাহ্যরূপে উচ্চারিত হয়েছে। তার মতে, ধনীরা পাঁচশ জনের আহার একা সংগ্রহ করায় এবং তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বণ্টন করে না দেওয়ায় দরিদ্ররা চুরি করতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে দোষ চোরের নয়, দোষ কৃপণ ধনীর। এছাড়া বিড়াল তার শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে যা বলেছে তাতে দরিদ্রের বঞ্চনার চিত্র সম্যকভাবে উন্মোচিত হয়। উদ্দীপকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এ ব্যানার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে বঞ্চিত মানুষের দাবি বেশি কিছু নয়, শুধু তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য। কেননা শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে ও ঘামে সভ্যতার চাকা গতিশীল হলেও তারা সে শ্রমের মূল্য পায় না। এই সংক্ষিপ্ত কথনে আমরা বুঝতে পারি, সমাজে দরিদ্ররা ধনীদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য তো পায়ই না, এমনকি তাদের শ্রমের মূল্য পর্যন্ত ধনীরা দিতে চায় না। অন্যদিকে ‘বিড়াল’ রচনায় ধনী- দরিদ্রের বৈষম্য তুলে ধরার পাশাপাশি এরূপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকেও। অর্থাৎ ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দরিদ্রের বঞ্চনার যে চিত্র রয়েছে তার ইঙ্গিতপূর্ণ উল্লেখ আছে উদ্দীপকে।

ঘ. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়ালের ‘সোশিয়ালিস্টিক’ মনোভাবের মধ্য দিয়ে দরিদ্রের অধিকারবোধ প্রকাশ পেয়েছে, যার সশস্ত্র প্রকাশ আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই । সাম্যবাদবিমুখ, ইংরেজশাসিত ভারতবর্ষে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘বিড়াল’ রচনায় একটি বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, সাধু-চোরের বৈষম্য ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিড়াল পৃথিবীর সকল বর্ণিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনার ভাষ্যকার। উদ্দীপকে বিড়ালের উচ্চকিত অধিকারবোধের সশস্ত্র প্রকাশ দেখি আমরা। উদ্দীপকের প্রথমেই আছে কীভাবে ধনী দরিদ্রকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। কীভাবে দরিদ্রের প্রার্থিত শ্রমের দামও দেওয়া হচ্ছে ‘না তাদের। আর তাদের দীর্ঘ বঞ্চনা থেকেই ক্ষুব্ধ কৃষক প্রকাশ করছে তার সশস্ত্র অধিকারবোধ। যে কাস্তে শ্রমজীবীর অর্থ উপার্জনের উপায়, শ্রমজীবী কৃষক তার পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হলে সেই কাস্তেকেই অস্ত্রে পরিণত করবে। শোষকের কন্ঠনালির রক্ত পান করে সেই কাস্তে দরিদ্রের অধিকার আদায় করবে। ‘বিড়াল’ রচনা এবং উদ্দীপকে সমাজের অবহেলিত, লাঞ্ছিত, সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের অধিকার সচেতনতা প্রকাশ পেয়েছে। বিড়ালের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন থাকতেও ধনীরা যে গরিবের দিকে মুখ তুলে তাকায় না— তাতেই সমাজে চুরি, রাহাজানিসহ অন্যান্য অরাজকতা ঘটে। আর এজন্যে দরিদ্রের চেয়ে বেশি দায়ী কৃপণ ধনী। বিড়ালের ভাষ্য, ‘অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই।’ ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের সোশিয়ালিস্টিক কথাবার্তায় যে অধিকার সচেতনতার কথা ব্যক্ত হয়েছে উদ্দীপকে সে অধিকারবোধেরই সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে। সেদিক বিবেচনায় ‘বিড়াল’ রচনা ও উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-৬: মতলবপুর গ্রামে সুসজ্জিত স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, সোনাফলা ফসলি জমি সবই আছে কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা বা স্কুল-কলেজের শিক্ষা গ্রহণের জন্যে যে আর্থিক সামর্থ্যের প্রয়োজন তা গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই নেই। ফসলি জমির ফসল ওঠে কয়েকটি ভূস্বামী পরিবারের গোলায়। তাই অর্ধাহারে, অশিক্ষায় আর চিকিৎসাহীনতায় মানবেতর জীবনযাপন করে মতলবপুর গ্রামের আশি ভাগ মানুষ। বাইরে থেকে দেখলে যে গ্রামকে আদর্শ মনে হয়, নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভেসে ওঠে সে গ্রামের বঞ্চিত গ্রামবাসীর অসহায় মুখচ্ছবি।

ক. চোর অপেক্ষা শতগুণে দোষী কে?
খ. যখন বিচারে পরাস্ত হইবে তখন গম্ভীরভাবে উপদেশ প্রদান করিবে।’ ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকের ‘ফসল’-এর সাথে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের ধনবৃদ্ধির তুলনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে।” বাক্যটির তাৎপর্য লেখো।

সৃশনশীল-উত্তর-৬

ক চোর অপেক্ষা শতগুণে দোষী কৃপণ ধনী।

খ. ‘যখন বিচারে পরাস্ত হইবে তখন গম্ভীরভাবে উপদেশ প্রদান করিবে’- এটি কমলাকান্তের একটি আত্মরক্ষামূলক শ্লেষাত্মক বাণী।”বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়াল ও কমলাকান্তের মাঝে এক দীর্ঘ কাল্পনিক কথোপকথন হয়। এই কথোপকথনে বিড়াল ও কমলাকান্ত নিজ নিজ মত প্রকাশ করে। এতে বিড়াল ‘সোশিয়ালিস্টিক’, সুবিচারক, সুতার্কিক হওয়ায় কমলাকান্ত বিস্মিত ও যুক্তিতে পর্যুদস্ত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত শ্লেষ প্রকাশক মতবাদটির অবতারণা হয়।

See also  Paragraph: The Historic March 7 (ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ)

গ. উদ্দীপকের ‘ফসল’ শব্দটি ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে উল্লেখিত ‘ধনবৃদ্ধি’ বিষয়টির সঙ্গে তুলনীয় ।
‘বিড়াল’ রচনায় কমলাকান্তের মতে, ‘সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের উন্নতি নাই।’ কিন্তু বিড়াল এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘আমি যদি খাইতে না পাইলাম, তবে সমাজের উন্নতি লইয়া কী করিব?’ বিড়ালের এ মন্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার, তা হলো— সমাজে ধনসম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও তা যদি অল্প কিছু মানুষের মধ্যেই কুক্ষিগত থাকে, তাহলে সে সম্পদ দিয়ে দরিদ্রের কী লাভ? এজন্যেই বিড়াল দ্বিধাহীনভাবে বলেছে, ‘সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি। ধনীর ধনবৃদ্ধি না হইলে দরিদ্রের কী ক্ষতি?” উদ্দীপকে সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কে বিড়ালের মনোভাবের বাস্তব প্রতিফলন লক্ষণীয়। মতলবপুর গ্রামে সম্পদ, ফসলের প্রাচুর্য থাকলেও তা কুক্ষিগত হয়ে আছে কয়েকজন ভূস্বামীর হাতে। তাই অর্ধাহারে, অশিক্ষায় আর চিকিৎসাহীনতায় মানবেতর জীবনযাপন করে মতলবপুর গ্রামের আশি ভাগ মানুষ। বাইরে থেকে দেখলে যে গ্রামকে আদর্শ বলে মনে হয়, গভীরভাবে দেখলে সেখানে গ্রামবাসীর অসহায়ত্বই কেবল ফুটে ওঠে। উদ্দীপকের ফসল যেমন মুষ্টিমেয় ভূস্বামীর তেমনি ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে উল্লিখিত সিংহভাগ ধন হলো ধনীদের। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের ফসল আর ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের ধনিকশ্রেণির ধনবৃদ্ধির দিকটি তুলনীয়।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, দরিদ্রের বঞ্চনা, সমাজের অরাজকতায় ধনীর দায়িত্ব ইত্যাদি নানা বিষয় বিড়ালের সোশিয়ালিস্টিক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আর উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে এসব বিষয়ের আংশিক দিক মাত্র। উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে সমাজের সমস্ত সম্পদ মুষ্টিমেয় মানুষের অধিকারে থাকায় কীভাবে অধিকাংশ মানুষ বিত্তহীন হয়ে পড়ছে। ব্যর্থ হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করতে। গ্রামের সিংহভাগ মানুষ হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলালেও তারাই অর্ধাহারে, অশিক্ষায় দিনাতিপাত করে। অবস্থা এমন যে, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটুকু পর্যন্ত পায় না। এই পরিস্থিতি আলোচ্য ‘বিড়াল’ রচনার একটি দিক মাত্র। ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়াল ও কমলাকান্তের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সমাজ সত্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচিত হয়েছে। ‘বিড়াল’ রচনায় সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সম্পর্কে বিস্তৃত বিষয় বর্ণিত হয়েছে। বিড়ালের মতে, বৈষম্যের কারণে সমাজে যাবতীয় অরাজকতার সৃষ্টি। ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও দরিদ্রের দিকে মুখ তুলে তাকায় না। ফলে দরিদ্ররা হতদরিদ্রে পরিণত হচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্যে বাধ্য হচ্ছে চুরি করতে। বস্তুত এসব কথা বিড়ালের কণ্ঠে পৃথিবীর বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে এর একটি দিক। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-৭: আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের এমএ ক্লাসের ছাত্র। সমাজের কল্যাণ করতে সে পছন্দ করে। একবার তার এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খাদ্য আর চিকিৎসার অভাবে সাধারণ মানুষ নানারকম দুর্ভোগে পড়ে। সাধারণ মানুষের কষ্টে আজিজের প্রাণ কেঁদে ওঠে। মানুষের এমন পরিণতি সে মেনে নিতে পারেনি। তাই সে বন্ধুদের নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

ক. ‘মার্জার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. পরোপকারই পরম ধর্ম’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আজিজের পরোপকারের মাঝে ‘বিড়াল’ রচনায় প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটির ভাবের সাথে ‘বিড়াল’ রচনার আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে— আলোচনা করো।

সৃশনশীল-উত্তর-৭:

ক. ‘মার্জার’ শব্দের অর্থ— বিড়াল।
খ. ‘পরোপকারই পরম ধর্ম’ কথাটিতে ধর্ম সম্পর্কে বিড়ালের অভিমত প্রকাশিত হয়েছে।
নিজের জন্যে রাখা দুধ বিড়াল পান করলে কমলাকান্ত বিড়ালকে প্রহার করতে গিয়েও পুনরায় শয্যায় ফিরে আসে। তখন বিড়াল কমলাকান্তকে বলে, ‘এই দুগ্ধটুকু পান করিয়া আমার পরম উপকার হইয়াছে। তোমার আহরিত দুগ্ধে এই পরোপকার সিদ্ধ হলো— অতএব তুমি সেই পরম ধর্মের ফলভাগী। কারণ বিড়ালের মতে, ‘পরোপকারই পরম ধর্ম।’ বস্তুত প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে মানবতাবাদী লেখকের নৈতিক দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অন্যের উপকারই শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বিড়াল’ রচনায় পরোপকার সম্পর্কে বিড়াল যে মন্তব্য করেছে, উদ্দীপকের আজিজের পরোপকারের মাঝে তার প্রতিফলন দেখা যায়। “বিড়াল’ রচনায় লেখক বিড়ালের ভাষ্যে সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণির দুঃখ-দুর্দশা নিপীড়ন, নিষ্পেষণ ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন আত্মোপলব্ধিজাত নৈতিক দর্শন। উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে আজিজের কর্মকাণ্ডে তার নৈতিক চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। বিড়াল’ রচনায় ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দূরীকরণের প্রত্যাশা উচ্চকিত হয়েছে। পাশাপাশি লেখক সেখানে তাঁর আত্মোপলব্ধিজাত নৈতিক দর্শন এবং সাম্যবাদী সমাজ ভাবনাই মূর্ত করে তুলেছেন। যেখানে বিড়ালের স্বগতোক্তিতে লেখকের ভাষ্য- পরোপকারই পরম ধর্ম। কেননা দু মানুষকে সেবার মাধ্যমে যে পরোপকার সাধিত হয় তার চেয়ে আর বড় ধর্ম নেই। উদ্দীপকের আজিজের মাঝেও সেই পরম ধর্মাচারের প্রতিফলন লক্ষিত হয়। উচ্চশিক্ষিত আজিজ জনমানুষের কল্যাণে কাজ করতে পছন্দ করে । বন্যায় গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলে সে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। বন্ধুদের নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। বস্তুত ‘বিড়াল’ রচনায় বিধৃত লেখকের মানবিক ভাবনাই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আজিজের জনকল্যাণমূলক কাজে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়াল কর্তৃক বিবৃত পরোপকার সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায়।

ঘ. উদ্দীপকটির ভাবে ‘বিড়াল’ রচনার আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে— মন্তব্যটি যথার্থ।’বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের কণ্ঠে পৃথিবীর সকল বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনার পাশাপাশি পরোপকারের মহত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল পরোপকারের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘বিড়াল’ রচনায় যে ন্যায়বাদ ও পরোপকারের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে তারই প্রতিফলন লক্ষিত হয়। সেখানে সমাজকল্যাণের ছাত্র আজিজ মানবিক দিক বিবেচনায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুদের সাথে নিয়ে তাদের সেবা করেছে। আজিজের সেবাপরায়ণ মানসিকতার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে সোশিয়ালিস্টিক বিড়ালের কণ্ঠেও। বিড়ালের মতে, পরোপকারই পরম ধর্ম। ‘বিড়াল’ রচনায় সাম্যবাদবিমুখ, ইংরেজশাসিত ভারতবর্ষে শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, সাধু-চোরের মধ্যে বৈষম্য ও সংগ্রামের কথা উচ্চকিত হয়েছে বিড়ালের কণ্ঠে। সেখানে লেখক আত্মোপলব্ধি থেকে সমাজের অরাজকতার জন্যে দরিদ্রের তুলনায় কৃপণ ধনীকেই দোষী করেছেন। সোশিয়ালিস্টিক মনোভাবের পরিচয় দিয়ে বিড়াল সমাজে ধনসাম্য প্রত্যাশা করেছে। বিড়ালের মতে, সমাজের ধনবৃদ্ধি মানে ধনীর ধনবৃদ্ধি। এর পাশাপাশি বিড়াল পরোপকারের মহত্ত্ব কীর্তন করতেও ভোলেনি। অর্থাৎ ‘বিড়াল’ রচনায় যেখানে সমাজের বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেখানে উদ্দীপকে কেবল পরোপকারের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় “উদ্দীপকটির ভাবের সাথে ‘বিড়াল’ রচনার আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে”— মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-৮:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন এক রাতে তাঁর শয়নকক্ষে এক চোরকে কিছু মালসহ ধরে ফেললেন। তিনি চোরকে শান্তি না নিয়ে চুরির কারণ। জিজ্ঞেস করলেন। চোর তার সংসারের অভাব-অনটনের কথা তুলে ধরল। হাজী মুহম্মদ মুহসীন ওই চোরকে নগদ অর্থ ও খাবার দিয়ে বিদায় করলেন।

ক. কমলাকান্ত বিড়ালকে কার লেখা বই উপহার দিতে চেয়েছিল?
খ. ধনীর দোষেই দরিদ্র চোর হয় — উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে ‘বিড়াল’ রচনার সাদৃশ্য অথবা বৈসাদৃশ্য নির্ণয় কর।
ঘ. উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের মতো মানুষ থাকলে সমাজে কাউকে আর চুরি করতে হতো না’ কথাটি বিশ্লেষণ করো।

সৃশনশীল-উত্তর-৮

ক. কমলাকান্ত বিড়ালকে নিউমান ও পার্করের লেখা গ্রন্থ উপহার দিতে চেয়েছিল।

খ. ধনীর কৃপণতার জন্যই দরিদ্র চোরে পরিণত হয়।একজন মানুষ কেন চোর হয় তা ‘বিড়াল’ রচনায় যুক্তিসংগত প্রষণের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে। ধনী দরিদ্রকে বঞ্চিত করে নিজের সম্পদ সংগ্রহ করে। তাই বেঁচে থাকার জন্য দরিদ্র খাদ্য চুরি করতে বাধ্য হয়। তাই দরিদ্র চুরি করলেও চুরির মূল কারণ কৃপণের মাত্রাতিরিক্ত ধন সঞ্চয়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে ‘বিড়াল’ রচনার মার্জারের বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে।’বিড়াল’ রচনায় প্রতীকী চরিত্র বিড়ালের ভাষ্যে পৃথিবীর সকল বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ বর্ণিত হয়েছে। তার মতে, ধনীরা পাঁচশ জনের আহার একা সংগ্রহ করায় এবং তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বণ্টন করে না দেওয়ায় দরিদ্ররা চুরি করতে বাধ্য হয়। এছাড়া বিড়াল তার শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে যা বলেছে তাতে দরিদ্রের বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে হাজী মুহম্মদ মুহসিনের জীবনের একটি কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। তিনি এক রাতে এক চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু মহানুভব মুহসীন চুরির জন্য চোরকে কোনো শাস্তি প্রদান করেন না। বরং চৌর্যবৃত্তির কারণ জানতে চান চোরের কাছে। চোর বলে অভাবের তাড়নায় সে চুরি করতে বাধ্য হয়। ‘বিড়াল’ রচনায়ও চুরির পেছনে অভাবের দিকটি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিই মানুষকে অপরাধকর্মে প্রবৃত্ত করে। আর এ দিক থেকেই উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ রচনার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের মতো মানুষ থাকলে সমাজে কাউকে আর চুরি করতে হতো না কথাটি যথার্থ। ‘বিড়াল’ রচনায় কমলাকান্ত ও বিড়ালের মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি চুরির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ধনীর কৃপণতাকে। এছাড়া সভ্য সমাজের উদাসীনতাকেও দায়ী করেছেন চুরির জন্য। উদ্দীপকে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের বদান্যতা প্রকাশ পেয়েছে। নিজ ঘরের মধ্যে চোরকে হাতেনাতে ধরে তাকে শাস্তি না দিয়ে সহায়তা করেন। তিরস্কার না করে তাকে সাহায্য করেন। চোরকে দণ্ডের বদলে নগদ অর্থ ও খাবার দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত শুধু মুহসীনের মতো মানুষদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ‘বিড়াল’ রচনার বিড়ালের কল্পিত জবানের মধ্য দিয়ে চুরির জন্য দায়ী করা হয়েছে ধনী কৃপণদের। কিন্তু উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকাণ্ড এর বিপরীত। ‘বিড়াল’ রচনায় বলা হয়েছে এ বিশ্বের অনেক বড় বড় সাধু, চোরের নামে যারা শিউরে ওঠেন, তারা অনেকেই চোৱ অপেক্ষাও অসৎ। কেননা তাদের প্রচুর ধন থাকলেও তারা দরিদ্রদের প্রতি নির্দয়। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত চরিত্রটি বিপরীত স্রোতের মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের মতো মানুষ থাকলে সমাজে কাউকে আর চুরি করতে হতো না- বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-৯:

পীর হাত মেলিয়া আখনার সম্মুখে ধরিল। নিটোল সুগঠিত কালো হাতের ওপর সাদা রূপার চুড়িগুলো বড় সুন্দর মানাইয়াছিল। আখনা মুগ্ধ হইয়া দেখিতেছিল। সে হাসিয়া বলিল, ‘দু টাকা বানি দিতে হবে, হ্যাঁ। আখনা চমকিয়া উঠিল, বলিল, ‘দু-টা-কা!’ পরী বিস্মিত হইয়া উত্তর দিল, ‘দু টাকা নইলে চুড়ি হয়?’ আখনা বলিল, ‘এখন আমি টাকা কোথা পাব বল দেখি?’ আজ এক কথাতেই পরী ক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল, ‘তোকে দিতে লাগবে না টাকা। আমি গতর খেটে শোধ দেব।’ আখনা বলিল, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আমি দেব বানি, আজই দেব।’ সেদিন দ্বিপ্রহরে আখনা মনিবের জনশূন্য বৈঠকখানাটায় প্রবেশ করিয়া সন্তর্পণে রূপাবাঁধানো হুঁকাটা তুলিয়া লইয়া কাপড় ঢাকা দিয়া সরিয়া পড়িল। পরী চুড়ি পরিল আখনা চুরি করিল।

ক. নৈয়ায়িক’ শব্দের অর্থ কী?
খ. বিড়াল কেন বলে, ‘দরিদ্রের আহার সংগ্রহের দণ্ড আছে, ধনীর কার্পণ্যের দণ্ড নাই কেন?’
গ. উদ্দীপকের আখনার সাথে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের বিড়ালের তুলনা
করো।
ঘ. ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আখনার চুরি সমর্থন করেননি।’- প্রবন্ধের আলোকে মতামতটি যাচাই করো।

See also  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম অধ্যায়

সৃশনশীল-উত্তর-৯:

ক. ‘নৈয়ায়িক’ শব্দের অর্থ ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত ব্যক্তি।

খ. ধনীরা সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার কারণে দরিদ্র চুরি করতে বাধ্য হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয় বলেই একথা বলা হয়েছে।ধনী ব্যক্তিরা নির্দয়ের মতো সমস্ত ধনসম্পদ আগলে রাখে অথচ ক্ষুধা- দারিদ্র্যপীড়িত কারো পাশে গিয়ে দাঁড়ায় না। তারা একা অনেক সঞ্চয় করে যার দরুন গরিবকে বাধ্য হয়ে চোর হতে হয়। কিন্তু সমাজে চোরের জন্যে শাস্তির বিধান থাকলেও চুরির মূলে দায়ী ধনীদের কোনো শাস্তির বিধান নেই বলে একথা বলা হয়েছে।

গ. প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের আখনা ও “বিড়াল’ গল্পের বিড়ালের মাঝে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুইই রয়েছে। আলোচ্য গল্পে বিড়াল চরিত্রটি সকল শোষিত, বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রায়িত হয়েছে। লেখক এই বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষিত শ্রেণির অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের আখনা হতদরিদ্র একজন মানুষ। তৎকালীন সমাজের প্রেক্ষিতে দুই টাকা জোগাড় করাও তার জন্যে অসম্ভব। তাই তো পরীর চুড়ির জন্য সে দুই টাকা দিতে পারে না। অবশেষে পরীর আবদার পূরণ করতে মনিবের রূপাবাধানো হুঁকাটা চুরি করে সে। এদিকে, আলোচ্য গল্পের বিড়ালকেও হতদরিদ্র শ্রেণি হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিড়াল কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ চুরি করে খেয়ে ফেলেছিল। দারিদ্র্য ও চুরি করার দিক থেকে আখনা ও বিড়ালের সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু চুরি করার কারনটি তাদের মাঝে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে। বিড়াল তার জঠর যন্ত্রণা নিবারণ করতে বাধ্য হয়ে চুরি করেছে অথচ আখনা পরীর আবদার পূরণ করার জন্যে চুরির পথ বেছে নিয়েছিল। এভাবেই বিড়াল ও আখনার মাঝে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুইই পরিলক্ষিত হয়।

ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আপনার চুরি সমর্থন করেননি- মন্তব্যটি যথার্থ।’বিড়াল’ গল্পের লেখক সমস্ত শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত শ্রেণির পক্ষে কলম ধরেছেন। একটি বিড়াল চরিত্রের মধ্য দিয়ে বঞ্চিত শ্রেণির মনঃকষ্ট ভুলে ধরে তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়েছেন। উদ্দীপকের পরী. আখনার কাছে রূপার চুড়ির বায়না ধরে। চুড়ির মূল্য দুই টাকা যা আপনার সামর্থ্যের বাইরে। কিন্তু পরীর মন রক্ষার্থে আখনা মনিদের রূপাবাধানো হুঁকা চুরি করে টাকার বন্দোবস্ত করে। এদিকে, আলোচ্য গল্পের বিড়াল প্রচণ্ড ক্ষুধাতাড়িত হয়ে চুরির পথ বেছে নিয়েছিল।’বিড়াল’ গল্পটিতে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সকল বঞ্চিত- নিষ্পেষিত-দলিত শ্রেণির অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা শ্লেষাত্মক ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তিনি ক্ষুধার্ত বিড়ালের চুরি করে দুধ খাওয়াকে অপরাধ বলার আগে কৃপণ ধনীর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষের চুরি করার জন্য তিনি কৃপণ ধনীদের অর্থনৈতিক অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন। চুরি করলেও লেখক মূলত ক্ষুধার্ত-বঞ্চিত বিড়ালের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকের আথনা ক্ষুধার মতো সংবেদনশীল কারণে চুরি করেনি, চুরি করেছে মনোধাসনা বা আবদার পূরণের জন্য। তাই আখনা দরিদ্র হলেও তার চুরির কারণ লেখকের কাছে সমর্থনযোগ্য নয় কেননা তা বিলাসিতা দ্বারা তাড়িত।

সৃশনশীল-প্রশ্ন-১০:

পীর হাত মেলিয়া আখনার সম্মুখে ধরিল। নিটোল সুগঠিত কালো হাতের ওপর সাদা রূপার চুড়িগুলো বড় সুন্দর মানাইয়াছিল। আখনা মুগ্ধ হইয়া দেখিতেছিল। সে হাসিয়া বলিল, ‘দু টাকা বানি দিতে হবে, হ্যাঁ। আখনা চমকিয়া উঠিল, বলিল, ‘দু-টা-কা!’ পরী বিস্মিত হইয়া উত্তর দিল, ‘দু টাকা নইলে চুড়ি হয়?’ আখনা বলিল, ‘এখন আমি টাকা কোথা পাব বল দেখি?’ আজ এক কথাতেই পরী ক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল, ‘তোকে দিতে লাগবে না টাকা। আমি গতর খেটে শোধ দেব।’ আখনা বলিল, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আমি দেব বানি, আজই দেব।’ সেদিন দ্বিপ্রহরে আখনা মনিবের জনশূন্য বৈঠকখানাটায় প্রবেশ করিয়া সন্তর্পণে রূপাবাঁধানো হুঁকাটা তুলিয়া লইয়া কাপড় ঢাকা দিয়া সরিয়া পড়িল। পরী চুড়ি পরিল আখনা চুরি করিল।

ক. নৈয়ায়িক’ শব্দের অর্থ কী?
খ. বিড়াল কেন বলে, ‘দরিদ্রের আহার সংগ্রহের দণ্ড আছে, ধনীর কার্পণ্যের দণ্ড নাই কেন?’
গ. উদ্দীপকের আখনার সাথে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের বিড়ালের তুলনা
করো।
ঘ. ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আখনার চুরি সমর্থন করেননি।’- প্রবন্ধের আলোকে মতামতটি যাচাই করো।

সৃজনশীল-উত্তর:১০:

ক. ‘নৈয়ায়িক’ শব্দের অর্থ ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত ব্যক্তি।

খ. ধনীরা সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার কারণে দরিদ্র চুরি করতে বাধ্য হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয় বলেই একথা বলা হয়েছে।ধনী ব্যক্তিরা নির্দয়ের মতো সমস্ত ধনসম্পদ আগলে রাখে অথচ ক্ষুধা- দারিদ্র্যপীড়িত কারো পাশে গিয়ে দাঁড়ায় না। তারা একা অনেক সঞ্চয় করে যার দরুন গরিবকে বাধ্য হয়ে চোর হতে হয়। কিন্তু সমাজে চোরের জন্যে শাস্তির বিধান থাকলেও চুরির মূলে দায়ী ধনীদের কোনো শাস্তির বিধান নেই বলে একথা বলা হয়েছে।

গ. প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের আখনা ও “বিড়াল’ গল্পের বিড়ালের মাঝে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুইই রয়েছে। আলোচ্য গল্পে বিড়াল চরিত্রটি সকল শোষিত, বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রায়িত হয়েছে। লেখক এই বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষিত শ্রেণির অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের আখনা হতদরিদ্র একজন মানুষ। তৎকালীন সমাজের প্রেক্ষিতে দুই টাকা জোগাড় করাও তার জন্যে অসম্ভব। তাই তো পরীর চুড়ির জন্য সে দুই টাকা দিতে পারে না। অবশেষে পরীর আবদার পূরণ করতে মনিবের রূপাবাধানো হুঁকাটা চুরি করে সে। এদিকে, আলোচ্য গল্পের বিড়ালকেও হতদরিদ্র শ্রেণি হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিড়াল কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ চুরি করে খেয়ে ফেলেছিল। দারিদ্র্য ও চুরি করার দিক থেকে আখনা ও বিড়ালের সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু চুরি করার কারনটি তাদের মাঝে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে। বিড়াল তার জঠর যন্ত্রণা নিবারণ করতে বাধ্য হয়ে চুরি করেছে অথচ আখনা পরীর আবদার পূরণ করার জন্যে চুরির পথ বেছে নিয়েছিল। এভাবেই বিড়াল ও আখনার মাঝে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুইই পরিলক্ষিত হয়।

ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আপনার চুরি সমর্থন করেননি- মন্তব্যটি যথার্থ।’বিড়াল’ গল্পের লেখক সমস্ত শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত শ্রেণির পক্ষে কলম ধরেছেন। একটি বিড়াল চরিত্রের মধ্য দিয়ে বঞ্চিত শ্রেণির মনঃকষ্ট ভুলে ধরে তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়েছেন। উদ্দীপকের পরী. আখনার কাছে রূপার চুড়ির বায়না ধরে। চুড়ির মূল্য দুই টাকা যা আপনার সামর্থ্যের বাইরে। কিন্তু পরীর মন রক্ষার্থে আখনা মনিদের রূপাবাধানো হুঁকা চুরি করে টাকার বন্দোবস্ত করে। এদিকে, আলোচ্য গল্পের বিড়াল প্রচণ্ড ক্ষুধাতাড়িত হয়ে চুরির পথ বেছে নিয়েছিল।’বিড়াল’ গল্পটিতে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সকল বঞ্চিত- নিষ্পেষিত-দলিত শ্রেণির অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের কথা শ্লেষাত্মক ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তিনি ক্ষুধার্ত বিড়ালের চুরি করে দুধ খাওয়াকে অপরাধ বলার আগে কৃপণ ধনীর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষের চুরি করার জন্য তিনি কৃপণ ধনীদের অর্থনৈতিক অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন। চুরি করলেও লেখক মূলত ক্ষুধার্ত-বঞ্চিত বিড়ালের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকের আথনা ক্ষুধার মতো সংবেদনশীল কারণে চুরি করেনি, চুরি করেছে মনোধাসনা বা আবদার পূরণের জন্য। তাই আখনা দরিদ্র হলেও তার চুরির কারণ লেখকের কাছে সমর্থনযোগ্য নয় কেননা তা বিলাসিতা দ্বারা তাড়িত।

সৃজনশীল-প্রশ্ন-১১:
ভক্তপুর গ্রামের শ্মশানঘাটের এক প্রান্তে জরাজীর্ণ একটি মঠ। তার পাশ দিয়ে ক্ষুধায় কাতর ভবেশচন্দ্র উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। তার এই উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি ভক্তপুর গ্রামের নিরক্ষর, অজ্ঞান মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ভবেশচন্দ্র তাদের জানায় যে, সে বহুদূর থেকে স্বপ্নে সাঁইবাবার মঠের খবর পেয়েছে। এ কথা শুনে নানা গ্রাম থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে নাম না জানা মঠকে কেন্দ্র করে। আর এই মঠের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে ভবেশচন্দ্র সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠে এবং তার সকল অভাব দূর হয়। মাঝে মাঝে ভবেশচন্দ্র তার প্রতারণার কথা ভেবে অপরাধবোধে জর্জরিত হলেও আবার ভাবে যে, এই প্রতারণাই তাকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই সে একে গুরুতর অপরাধ বলে মনে করে না ।

ক. বৃদ্ধের নিকট কী হতে পারলে বিড়ালের পুষ্টি হয়?
খ. বিড়াল চোরকে সাজা দেওয়ার পূর্বে বিচারককে তিন দিন উপবাস করার কথা বলেছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ রচনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “টিকে থাকার নির্মম বাস্তবতা সমাজে অনেক সময় প্রতারণা ও অপরাধের বিস্তার ঘটায়”— মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘বিড়াল’ প্রবন্ধ অনুসরণে বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল-উত্তর-১১:
ক. বৃদ্ধের নিকট যুবতী ভার্যার সহোদর হতে পারলে বিড়ালের পুষ্টি হয়।

খ. বিচারক যদি অপরাধীর বেদনা বুঝতে পারেন তাহলে বিচার সার্থক হয়- এ কারণে চোরকে সাজা দেওয়ার আগে বিচারককে তিন দিন উপবাস করার কথা বলা হয়েছে। বিচারকের কাজ সর্বদা ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষভাবে অপরাধের কারণ বের করে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া। ক্ষুধা না লাগলে কেউ চুরি করে না। তাই চোরের বিচার করার আগে বিচারক যদি তিন দিন উপবাস করেন তবেই তিনি বুঝতে পারবেন ক্ষুধার জ্বালা কেমন এবং চোরের চুরির কারণ কী। বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. অভাবের তাড়নায় অন্যায়ের পথ বেছে নেওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘বিড়াল’ রচনার সাদৃশ্য নির্মিত হয়।’বিড়াল’ রচনায় বিড়ালটি ক্ষুধার জ্বালায় প্রাচীরে প্রাচীরে ঘুরে বেড়ায়। তবু তাকে কেউ খেতে দেয় না। তাই ক্ষুধার জ্বালায় বিড়ালটি কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ খেয়ে ফেলে। কাজটি অন্যায় জেনেও বিড়াল তা করতে প্রবৃত্ত হয় শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্য। উদ্দীপকের ভবেশচন্দ্রও ‘বিড়াল’ রচনার বিড়ালের মতো ক্ষুধায় কাতর। ক্ষুধা নিবারণ করতে গিয়ে সে অন্যায় পথের আশ্রয় নেয়। নিরক্ষর গ্রামবাসীকে সে মিথ্যা বলে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। মানুষকে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সে তার অভাব দূর করতে সচেষ্ট হয়। ‘বিড়াল’ রচনায়ও বিড়াল কমলাকান্তের জন্য বরাদ্দকৃত দুধ খেয়ে অপরাধ করে। উভয়ক্ষেত্রে বিড়াল ও ভবেশচন্দ্র নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে অনৈতিক পথ বেছে নেয়। ‘বিড়াল’ রচনার এ দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ. ‘বিড়াল’ রচনায় শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, অধিকার বিষয়ক সংগ্রামের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
স্বেচ্ছাকৃত অপরাধপ্রবণতা খুব কমই দেখা যায়। মূলত পরিস্থিতির শিকার হয়েই অপরাধী অপরাধকর্মে প্রবৃত্ত হয়। ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়াল যে চুরি করে কমলাকান্তের রাখা দুধটুকু খেয়ে ফেলেছে, তা মূলত ক্ষুধা নিবারণের জন্যই ।উদ্দীপকের ভবেশচন্দ্র অভাবের তাড়নায় কাতর একজন মানুষ। ক্ষুধার জ্বালায় সারাদিন উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে সে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। গ্রামবাসীদের মিথ্যা বলে সে মূলত তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার অভাব দূর করার জন্য। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সে এমন কাজ করতে প্রবৃত্ত হয়েছে। উদ্দীপকের ভবেশচন্দ্র এবং ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়াল উভয়ই ক্ষুধার জ্বালা নিবারণে অন্যায়কে পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। যদি তারা অন্য কোনো উপায়ে তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারত, তাহলে তারা এ কাজে নিয়োজিত হতো না। কেননা বেঁচে থাকার জন্যই মানুষের এই নিরন্তর সংগ্রাম। ক্ষুদ্র তেলাপোকা থেকে মানুষ সকলে বেঁচে থাকতে প্রাণপণ লড়াই করে যায়। এ সংগ্রামে তারা ন্যায়-অন্যায় যেকোনো পথ বেছে নেয়। কেননা টিকে থাকাই হচ্ছে মানুষের চরম সার্থকতা। সমাজের এত অনাচার, বিশৃঙ্খলা, অপরাধ, সবকিছু মূলত টিকে থাকার ইচ্ছের কারণেই সংঘটিত হচ্ছে। প্রতারণা ও অপরাধবোধ বিবেচনা করার মতো বোধ তখন কাজ করে না। তাই এ কথা যথার্থ যে, টিকে থাকার নির্মম বাস্তবতা সমাজে অনেক সময় প্রতারণা ও অপরাধের বিস্তার ঘটায়।

Facebook
Twitter
LinkedIn

Related Posts

No Content Available

Related Posts

Welcome Back!

Login to your account below

Create New Account!

Fill the forms bellow to register

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

x

Add New Playlist

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?